
আজকের ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, কনটেন্ট তৈরি কিংবা সাধারণ তথ্য জানার জন্য আমরা ক্রমেই চ্যাটজিপিটি, জেমিনি বা পারপ্লেক্সিটির মতো এআই চ্যাটবটের ওপর নির্ভরশীল হচ্ছি। তবে এসব প্রযুক্তি সব সময় নির্ভুল তথ্য দেয় না—অনেক সময় ভুল বা কাল্পনিক তথ্যও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করে, যাকে বলা হয় এআই হ্যালুসিনেশন।
এআই হ্যালুসিনেশন ঘটে তখনই, যখন কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকৃত তথ্য বা নির্ভরযোগ্য ডেটার পরিবর্তে অনুমানভিত্তিক বা বাস্তবে অস্তিত্ব নেই এমন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে। ভাষাগতভাবে সঠিক শোনালেও এসব তথ্য অনেক সময় সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মূলত তার প্রশিক্ষণ ডেটার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। সেই ডেটা অসম্পূর্ণ বা পুরনো হলে ভুল তথ্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া এআই আসলে তথ্য “বোঝে” না; বরং শব্দ ও বাক্যের প্যাটার্ন মিলিয়ে উত্তর তৈরি করে। ফলে একাধিক তথ্য একত্র হয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো বাস্তব সময়ের তথ্যের অভাব এবং অতিরিক্ত মানিয়ে নেওয়ার প্রবণতা, যার কারণে অনেক সময় প্রশ্নের সঠিক প্রেক্ষাপট ধরতে ব্যর্থ হয় এআই।
চিকিৎসা, আইন বা আর্থিক খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল তথ্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এ সমস্যাকে ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
তবে এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো “র্যাগ” প্রযুক্তি, যেখানে এআই সরাসরি নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে উত্তর দেয়। পাশাপাশি “গ্রাউন্ডিং” পদ্ধতিতে এআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়, যদি কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয় তবে তা স্বীকার করতে।
মানব প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এআইকে আরও উন্নত করার কাজও চলছে। ব্যবহারকারীদের দেওয়া ফিডব্যাক ভবিষ্যতে ভুল কমাতে সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যবহারকারীদের উচিত এআই থেকে পাওয়া যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে নেওয়া। কারণ এআই সহায়ক হলেও এটি এখনও শতভাগ নির্ভরযোগ্য মানব বিকল্প নয়।