
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতি। আয়োজক দেশগুলোর তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচের দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের বিরতি চালু করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
সমালোচকদের দাবি, এই বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খেলা থেমে যাওয়ায় আক্রমণাত্মক ছন্দে থাকা দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনেক কোচ ও বিশ্লেষক মনে করছেন, তিন মিনিটের এই বিরতি কৌশলগত সমীকরণও বদলে দিতে পারে।
বিশেষ করে ম্যাচের মোমেন্টাম ধরে রাখার ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ মনে করেন, পিছিয়ে থাকা দলগুলো এই সময়কে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা চলমান ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে সক্ষম।
এর বাস্তব উদাহরণও দেখা গেছে চলতি বিশ্বকাপে। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির পর নতুন কৌশল প্রয়োগ করে ব্রাজিল সমতায় ফিরতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে জার্মানির বিপক্ষে দুর্দান্ত সূচনা করা কুরাসাও হাইড্রেশন ব্রেকের পর ছন্দ হারিয়ে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ফলে বিরতির ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুই ধরনের প্রভাবই আলোচনায় এসেছে।
Carlo Ancelotti এই বিরতিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে দেখলেও অনেকেই তার সঙ্গে একমত নন। অন্যদিকে Emma Hayes একে সরাসরি ‘মোমেন্টাম ব্রেক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ভালো খেলতে থাকা দলের গতি থামিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এই নিয়ম।
তবে হাইড্রেশন ব্রেকের পক্ষে শক্ত অবস্থানও রয়েছে। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে অনেক চিকিৎসক, ফিটনেস বিশেষজ্ঞ এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় দীর্ঘ সময় খেলার ফলে ডিহাইড্রেশন, হিট স্ট্রোক ও শারীরিক ক্লান্তির ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নির্ধারিত বিরতি খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেকটি বিতর্কের বিষয় হলো সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বার্থ। কিছু সমালোচকের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত বিরতি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবুও ফুটবল মহলে আলোচনা থামছে না।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের এই নতুন নিয়ম ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ একে আধুনিক ফুটবলের প্রয়োজনীয় বাস্তবতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি খেলাটির স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও ধারাবাহিকতা নষ্ট করছে। হাইড্রেশন ব্রেক শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য নাকি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার একটি নতুন উপাদান—সে বিতর্ক আপাতত চলছেই।