প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 16, 2026 ইং
অর্থের অভাবে মাকে সঙ্গে আনতে পারিনি : কেপ ভার্দের গোলরক্ষক
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে কেপ ভার্দে। আর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক Vozinha। দুর্দান্ত সব সেভে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দেওয়ার পর ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়েন ভোজিনিয়া। কিছুক্ষণ পর দুই হাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার এই আবেগঘন মুহূর্ত দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ফুটবল অঙ্গনের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং ঐতিহাসিক অর্জনের নায়ক হিসেবে সম্মান জানান।
ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় নিজের আবেগের কারণ ব্যাখ্যা করেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। তিনি জানান, ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছেই তার বেড়ে ওঠা। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটিতে তারা কেউ উপস্থিত থাকতে পারেননি, কারণ কয়েক বছর আগেই তারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।
ভোজিনিয়া বলেন, ম্যাচ শেষে তার কান্নার পেছনে ছিল প্রিয়জনদের স্মৃতি। বিশেষ করে দাদা-দাদির অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। পাশাপাশি তিনি জানান, ভিসা জটিলতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তার মাকেও বিশ্বকাপের এই ম্যাচ দেখতে মাঠে আনা সম্ভব হয়নি।
তার এই বক্তব্য শুধু কেপ ভার্দের সমর্থকদেরই নয়, বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদেরও আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে তার সংগ্রাম, ত্যাগ এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসার গল্প তুলে ধরেছেন।
ম্যাচ বিশ্লেষণে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার Pat Nevin ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তার মতে, পুরো ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন এবং ৪০ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স সত্যিই বিস্ময়কর। ম্যাচ শেষে সব আলো তার দিকেই ছিল এবং সতীর্থরাও তাকে দলের প্রকৃত নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন।
একইভাবে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার Lee Dixon বলেন, ভোজিনিয়ার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তার মতে, স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কেপ ভার্দে এই এক পয়েন্ট পুরোপুরি প্রাপ্য এবং ম্যাচের নায়ক নিঃসন্দেহে ভোজিনিয়া।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের এই ড্র। আর সেই স্মরণীয় রাতের প্রতীক হয়ে উঠেছেন ভোজিনিয়া। তার চোখের জল ছিল শুধু আনন্দের নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রাম, পারিবারিক ত্যাগ এবং স্বপ্নপূরণের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।