
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের দাবিতে গণমিছিল, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে শহরের বড় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। ‘তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বাসিন্দা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুন নবী টিটুল, কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু, ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশুসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই রুটে একটি আধুনিক সেতু নির্মিত হলে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, কৃষি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, চরাঞ্চলের উন্নয়ন, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, সম্ভাবনাময় পর্যটন খাতের বিকাশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দ্বিতীয় যমুনা সেতু একটি সময়োপযোগী প্রকল্প। এ কারণে চলমান জাতীয় বাজেটে প্রকল্পটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।