
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের অভিযান শুরুর আগে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছেছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। তবে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে দলটির চারপাশে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এবং অধিনায়ক মেহদি তারেমি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতি ও বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
লস অ্যাঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ গালেনোই জানান, তিনি মূলত ফুটবল নিয়ে কথা বলতে চান। যদিও ফিফা কর্মকর্তারা সংবাদকর্মীদের কেবল ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তবুও চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা আলোচনায় উঠে আসে।
ইরান দলের প্রস্তুতিতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতা। এ কারণে দলটি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে অবস্থান না করে মেক্সিকোতে ক্যাম্প করছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলবে এবং ম্যাচ শেষে আবার মেক্সিকোতে ফিরে যাবে।
কোচ গালেনোই মনে করেন, এ ধরনের পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলে। তার ভাষায়, ফুটবল মানুষের মধ্যে সংযোগ ও ইতিবাচকতার বার্তা বহন করে, কিন্তু নানা বাধা ও উত্তেজনা সেই পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বকাপকে শান্তি, আনন্দ ও বৈশ্বিক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই উৎসবমুখর আবহ কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। তার মতে, ফুটবলকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে রাখা জরুরি।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইরান ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। ১০ ম্যাচে মাত্র একটি পরাজয় এবং দুটি ড্র নিয়ে তারা গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জন করে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে দলটি টুর্নামেন্টে সম্ভাবনাময় প্রতিযোগী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে দলটির ভ্রমণ ও অবস্থান পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
এদিকে লস অ্যাঞ্জেলসে ইরান-সংশ্লিষ্ট কিছু রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তবুও ইরান শিবিরের বার্তা স্পষ্ট—তারা মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়াতে চায়।
কোচ গালেনোই বলেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তার জন্য গর্বের বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর বিভিন্ন সংস্কৃতি, জাতি ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ঐক্য আরও জোরদার করবে।