
রাজধানীর রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম চৌধুরী-কে ফের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন। এর আগে গত ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপপরিদর্শক আমির হামজা আদালতে ফাহিমকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত ওইদিন শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্তে এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় আর এস ফাহিম চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রাষ্ট্রের অখণ্ডতা, সংহতি ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রমনা পার্কের একটি স্থানে কয়েকজন আসামি গোপন বৈঠকে অংশ নেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনায় রমনা থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত চলাকালে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন সন্দেহে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম উঠে আসে, যার মধ্যে আর এস ফাহিম চৌধুরীর নামও রয়েছে বলে তদন্ত সূত্রে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী তাকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাকে প্রথমে শাহ আলী থানা এবং পরবর্তীতে গুলশান থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরদিন, অর্থাৎ ৩০ মার্চ, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।