
তেল আবিবের একটি আবাসিক এলাকায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক গোয়েন্দা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে নতুন এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও ঘটনাটি প্রথমে একটি সাধারণ বিস্ফোরণ হিসেবে সামনে আসে, পরবর্তীতে এর প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। স্পাইটকের বরাত দিয়ে ইসরাইলের প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্যালক্যালিস্টেক ডটকম জানায়, ওই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তেল আবিবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা কেন্দ্র।
সে সময় তেল আবিবের লেভ হা’ইর এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণে একটি বহুতল আবাসিক ভবন ধ্বংস হয় এবং আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় ফিলিপাইনের নাগরিক মেরি অ্যান ভেলাসকুয়েজ দে ভেরা নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিস্ফোরণের কেন্দ্রস্থল থেকে অল্প দূরত্বেই ইসরাইলের জাতীয় ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান বা ‘জিওইন্ট’ ঘাঁটি অবস্থিত ছিল, যা ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ইউনিট ৯৯০০’-এর অংশ হিসেবে কাজ করে।
এই ইউনিটটি মূলত স্যাটেলাইট, ড্রোন এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভৌগোলিক ও অবস্থানভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ, মানচিত্র তৈরি এবং অপারেশন পরিকল্পনায় এই ইউনিটের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানি একটি মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি ওই সংবেদনশীল স্থাপনার আশপাশে আঘাত হানে। এতে গোপন গোয়েন্দা অবকাঠামোর একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করে এবং ওই গোপন ঘাঁটি বা এর ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল আবিবের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা থাকা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এই হামলা ইরান-ইসরাইল উত্তেজনাকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রতিবেদনের এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ঘটনার প্রকৃত লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।