
আবাসিক গ্রাহকদের জন্য সম্প্রতি ঘোষিত বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে লাইফলাইন গ্রাহক এবং নিম্ন ব্যবহারকারী পরিবারের ওপর বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব বিবেচনায় বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, লাইফলাইন গ্রাহক অর্থাৎ ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য আগের ট্যারিফ বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান দাম বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিইআরসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ৩ জুন ঘোষিত নতুন ট্যারিফ অনুযায়ী, আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হলে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) যে প্রস্তাবনা দিয়েছিল, বিইআরসির পুনঃনির্ধারিত ট্যারিফে তার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের নজরে আসার পর পুনরায় পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
বিভাগটির মতে, লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চিঠিতে বিদ্যুৎ বিভাগ উল্লেখ করেছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। সেই বিবেচনায় প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য নতুন ট্যারিফ সরকারের জনকল্যাণমুখী নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
এ কারণে লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যমান মূল্যহার বহাল রাখা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাঠানো প্রস্তাবের আলোকে নতুন করে ট্যারিফ নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বিইআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এখন বিইআরসি বিষয়টি পর্যালোচনা করে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে লাখো আবাসিক গ্রাহকের। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো বিদ্যুতের বাড়তি মূল্য প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছে।