
১২টি মামলায় জামিন লাভের পর কারামুক্ত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি মানবিক সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কারামুক্তির পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেন, বর্তমান সরকারকে তিনি ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কারাগারে থাকা অন্যান্য বন্দিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে অনেক মা রয়েছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ নিরপরাধ হতে পারেন। তাদের প্রতিও সরকার সহানুভূতিশীল হবে বলে তিনি আশা করেন।
আদালতের নির্দেশনা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেলার শিরিন আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মোট ১২টি মামলা চলমান রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এসব মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইনি প্রক্রিয়ায় প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি মামলায় ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন। পরে সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলেও ১৭ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এতে কোনো আদেশ দেননি। এর আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত আরও ১০টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনও আপিল বিভাগ বহাল রাখে।
ফলে মোট ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগে বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
মুক্তির সময় তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওয়াদ হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী ও পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কারাগারের বাইরে উপস্থিত সমর্থক ও স্বজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।