
বর্তমান সময়ে ফ্রিজ শুধু খাবার সংরক্ষণের যন্ত্র নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে অনেকেই ফ্রিজ কেনার পর ওয়ারেন্টির ওপর নির্ভর করে নিশ্চিন্ত থাকেন, অথচ সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই একটি ফ্রিজকে বছরের পর বছর ভালো অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে। কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে ফ্রিজের কর্মক্ষমতা বাড়ে, বিদ্যুৎ খরচ কমে এবং যন্ত্রের আয়ুও দীর্ঘ হয়।
ফ্রিজের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ফ্রিজের মূল অংশের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ডিপ ফ্রিজের তাপমাত্রা প্রায় মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা সবচেয়ে উপযোগী। এই তাপমাত্রা খাবারের পুষ্টিগুণ ও সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়।
রান্না করা গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। গরম খাবার ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, ফলে কম্প্রেসরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। তাই খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো।
ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত জিনিসপত্র গাদাগাদি করে রাখা থেকেও বিরত থাকতে হবে। ঠান্ডা বাতাস যাতে সহজে চলাচল করতে পারে, সেজন্য কিছু খালি জায়গা রাখা জরুরি। একই সঙ্গে খাবার ঢাকনাযুক্ত পাত্র, এয়ারটাইট কনটেইনার বা জিপলক ব্যাগে সংরক্ষণ করলে খাবারের গন্ধ একটির সঙ্গে অন্যটিতে মিশে যায় না এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় থাকে।
অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় ফ্রিজের দরজা খোলা রাখেন বা বারবার খুলে দেখেন। এতে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বের হয়ে যায় এবং কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ফিরিয়ে আনতে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই দরজা যত কম সময় খোলা রাখা যায়, ততই ভালো।
ফ্রিজের বিভিন্ন অংশে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। দরজার তাকে ডিম বা দুধ রাখার পরিবর্তে সস, জ্যাম, জুস কিংবা পানির বোতল রাখা ভালো। অন্যদিকে নিচের ড্রয়ারে শাকসবজি ও ফলমূল সংরক্ষণ করলে সেগুলো দীর্ঘ সময় সতেজ থাকে।
ফ্রিজের দরজার চারপাশে থাকা রাবার গ্যাসকেট নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। যদি এটি ঢিলা বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, তাহলে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে প্রবেশ করতে পারে, যা কুলিং কমিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায়। প্রয়োজনে দ্রুত গ্যাসকেট পরিবর্তন করা উচিত।
ফ্রিজের পেছনের অংশে থাকা কয়েল ও মোটরের তাপ সহজে বের হয়ে যাওয়ার জন্য ফ্রিজটি দেয়াল থেকে অন্তত ২ থেকে ৩ ইঞ্চি দূরে স্থাপন করা উচিত। এতে যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি কমে।
নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও ফ্রিজ রক্ষণাবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাসে অন্তত একবার ফ্রিজের ভেতর পরিষ্কার করা উচিত। হালকা গরম পানির সঙ্গে সামান্য বেকিং সোডা বা ভিনেগার মিশিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ দূর হয় এবং জীবাণুর বিস্তার কমে।
যেসব ফ্রিজে ফ্রস্ট-ফ্রি প্রযুক্তি নেই, সেগুলোর ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমতে দেওয়া উচিত নয়। বরফের স্তর আধা ইঞ্চির কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই ডিফ্রস্ট করলে কুলিং কার্যকারিতা ভালো থাকে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।