
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা হারানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন একটি তথ্য সামনে এনেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তার দাবি, দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনা তিন পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত পদত্যাগপত্র প্রস্তুত করেছিলেন, তবে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি সেই নথি নিজের ভ্যানিটি ব্যাগে করে সঙ্গে নিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।
শনিবার (৩০ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দি পোস্ট’-এ প্রচারিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মতিউর রহমান চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তের দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আর পাননি।
প্রবীণ এই সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রে শেখ হাসিনা তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্জন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেছিলেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের কারণও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) একজন কর্মীর মাধ্যমে চিঠিটি আনুষ্ঠানিকভাবে টাইপ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গণভবনের বাইরে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে পদত্যাগপত্রটি খসড়া বা হস্তলিখিত অবস্থাতেই থেকে যায়।
সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করতে গিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, গণভবনের চারপাশে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার দ্রুত স্থান ত্যাগের বার্তা দেওয়া হচ্ছিল। দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা শেখ হাসিনাকে জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ এবং অবিলম্বে গণভবন ছাড়তে হবে।
তার দাবি অনুযায়ী, তড়িঘড়ি করে বের হওয়ার সময় শেখ হাসিনা নিজের প্রয়োজনীয় ভ্যানিটি ব্যাগটি গণভবনের ভেতরে রেখে চলে যান। পরে গাড়িতে ওঠার আগে তিনি পাশে থাকা এক সেনা কর্মকর্তাকে ব্যাগটি এনে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ওই কর্মকর্তা ব্যাগটি এনে দিলে তিনি সেটি সঙ্গে নিয়ে রওনা হন। মতিউর রহমান চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ব্যাগের মধ্যেই সংরক্ষিত ছিল আলোচিত তিন পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্র।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।